বিশ্বের বৃহত্তম এই কনগ্লোমারেট যখন তাদের নিজস্ব শেয়ার কেনা শুরু করে, তখন তা সচরাচর কেবল কোনো হিসাবরক্ষণ সংক্রান্ত সাধারণ প্রক্রিয়া হয় না। বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে তাদের শেয়ার পুনর্ক্রয় কর্মসূচি আবার চালুর ঘোষণা দিয়েছে এবং এর ফলে বর্তমান বাজার দরের প্রতি ওয়ারেন বাফেটের আস্থার বিষয়টি নিয়ে বাজারে তাৎক্ষণিক আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। গত কয়েক প্রান্তিকে কোম্পানিটি তাদের শেয়ারের পেছনে শত শত কোটি ডলার ব্যয় করেছে এবং একই সাথে নগদ অর্থের একটি বিশাল মজুদও বজায় রেখেছে।
বার্কশায়ারের শেয়ারের বাজার দর যখন ব্যবসার অভ্যন্তরীণ প্রকৃত মূল্যের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল, তখন এই সিদ্ধান্তটি বেশ যুক্তিযুক্ত বলেই মনে হচ্ছে। বাফেট বারবার একটি কথাই বলে এসেছেন: শেয়ার পুনর্ক্রয় তখনই অর্থবহ হয় যখন শেয়ারের দাম তার প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক কম থাকে। বর্তমানে পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, সেই শর্তটি আবারও পূরণ হয়েছে। কোম্পানিটি তাদের বীমা ব্যবসা এবং বিনিয়োগ পোর্টফোলিও থেকে অবাধ নগদ অর্থপ্রবাহ অব্যাহত রেখেছে, অথচ সামনে বড় ধরনের কোনো আকর্ষণীয় চুক্তির সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।
শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এই কর্মসূচি পুনরায় চালুর অর্থ হলো, কোনো বাড়তি বিনিয়োগ ছাড়াই ভবিষ্যতে লাভের ক্ষেত্রে তাদের অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি পাবে। পুনরায় কেনা প্রতিটি শেয়ারের শতাংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবশিষ্ট মালিকদের জন্য ভবিষ্যৎ লভ্যাংশ এবং মূলধনী মুনাফার ভাগ বাড়িয়ে দেয়। এটি বিশেষ করে এমন সময়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ যখন সুদের হার তুলনামূলকভাবে বেশি এবং বিকল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম সুশৃঙ্খল একজন বিনিয়োগকারী কীভাবে আবারও নিজের ব্যালেন্স শিটকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন, তা পর্যবেক্ষণ করা বেশ কৌতুহলোদ্দীপক। নতুন কোনো বড় ধরনের অধিগ্রহণের পেছনে না ছুটে বার্কশায়ার বরং বর্তমান মালিকদের অবস্থানকেই আরও শক্তিশালী করতে পছন্দ করছে। এই দৃষ্টিভঙ্গিটি এমন অনেক কর্পোরেশনের আচরণের সম্পূর্ণ বিপরীত, যারা তাদের হাতে থাকা বাড়তি অর্থ ব্যয়বহুল চুক্তি বা বিশাল সব প্রকল্পে ব্যয় করে থাকে, যেগুলোর প্রতিদান বা রিটার্ন নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার পুনর্ক্রয় বা বাইব্যাক কর্মসূচি পুনরায় চালুর এই বিষয়টি ফটকা কারবার এবং ব্যবসার মালিকানার মধ্যে থাকা মূল পার্থক্যটিকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। যখন কোনো কোম্পানি সঠিক দামে তার নিজস্ব শেয়ার কেনে, তখন তারা প্রকৃতপক্ষে সেইসব মানুষের হাতেই মূলধন ফিরিয়ে দেয় যারা আগে থেকেই তাদের ব্যবসায়িক মডেলে বিশ্বাস রেখেছিলেন। ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি বার্তা যে, কখনো কখনো সবচেয়ে লাভজনক সিদ্ধান্তটি নতুন কোনো সুযোগ খোঁজা নয়, বরং যা আগে থেকেই নির্ভরযোগ্যভাবে চলছে তাতে নিজের অংশীদারিত্ব বাড়ানো।
বাজার কোনো ধরনের অস্থিরতা ছাড়াই অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এটিও বার্কশায়ারের একটি চিরাচরিত বৈশিষ্ট্য: এখানে বড় বড় বুলির দেখা মেলা ভার, বরং কাজই সব কথার উর্ধ্বে কথা বলে। পরিশেষে, এই কর্মসূচি পুনরায় চালু করাকে নিছক কোনো সাময়িক প্রবণতা বলে মনে হয় না, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলেরই অংশ যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্ত একটি মাত্র প্রশ্নের মাধ্যমেই যাচাই করা হয়—তা দীর্ঘমেয়াদী মালিকদের জন্য প্রকৃত মূল্য বৃদ্ধি করছে কি না।

