দিনে কতবার হাসা উচিত: বিজ্ঞানীরা কী বলেন

সম্পাদনা করেছেন: Svitlana Velhush

লিংকটি X (সামাজিক নেটওয়ার্ক) থেকে নেওয়া হয়েছে

হাসি মানুষের কাছে সহজলভ্য অথচ অত্যন্ত শক্তিশালী একটি কাজ। কিন্তু প্রকৃত উপকার পেতে দিনে কতবার হাসা উচিত? বিজ্ঞান «ঠিক 27 বার»-এর মতো কোনো কঠোর সংখ্যা দেয় না, তবে সঞ্চিত গবেষণাগুলো থেকে বেশ নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে আসা যায়।

আমরা আসলে কতটা হাসি

শিশুরা গড়ে প্রায় 400 বার হাসে দিনে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা তীব্রভাবে কমে যায়:

- সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক — প্রায় 20 বার হাসি প্রতিদিন;

- সুখী প্রাপ্তবয়স্করা — 40–50 বার;

- কিছু সমীক্ষায় (বিশেষত ব্রিটিশ ও রুশ) আরও কম সংখ্যা পাওয়া যায় — 7–11 বার হাসি.

বাজেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইস গবেষণায় দেখা গেছে, গড়ে মানুষ প্রায় 18 বার হাসে বা হাসিমুখ হয়. আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো হালকা হাসি, সশব্দ অট্টহাসি নয়।

আমরা যখন হাসি, তখন শরীরে কী ঘটে

অসংখ্য গবেষণা ‘মুখের প্রতিক্রিয়া’ তত্ত্বের (facial feedback hypothesis) প্রভাব নিশ্চিত করে। যখন মুখের পেশিগুলো হাসির ভঙ্গিতে আসে, মস্তিষ্ক সংকেত পায় এবং উৎপাদন শুরু করে:

- এন্ডোরফিন,

- ডোপামিন,

- সেরোটোনিন।

একটি বড় আন্তর্জাতিক গবেষণা Many Smiles Collaboration (প্রায় 4000 জন অংশগ্রহণকারী, 19টি দেশ থেকে, 2022 সাল) দেখিয়েছে: এমনকি ইচ্ছাকৃত হাসিও সুখের অনুভূতি সামান্য বাড়ায়। প্রভাবটি ছোট, তবে স্থিতিশীল।

অন্যান্য নিশ্চিত প্রভাব:

- চাপের পর হৃৎস্পন্দন দ্রুত স্বাভাবিক হয়;

- রক্তচাপ কিছুটা কমে;

- কর্টিসলের মাত্রা কমে;

- সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয় (মানুষ হাসিমুখ ব্যক্তিকে আরও নির্ভরযোগ্য ও দক্ষ বলে মনে করে)।

বাজেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার একটি আকর্ষণীয় সূক্ষ্ম দিক: হাসির সংখ্যা তার তীব্রতার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ. দিনে কয়েকটি হালকা হাসি একবারের জোরালো অট্টহাসির চেয়ে বেশি কার্যকরভাবে চাপ কমায়।

কোনো ‘আদর্শ মাত্রা’ আছে কি?

বিজ্ঞানীরা কোনো সরকারি চিকিৎসা-মানদণ্ড তৈরি করেননি। তবে তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবহারিক নির্দেশিকা তৈরি করা যায়:

- দিনে 15–20টি আন্তরিক হাসি — এই মাত্রায় পৌঁছালে বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কই ইতিমধ্যে লক্ষণীয় উপকার পেতে শুরু করেন।

- 30–40টি হাসি — এই পরিসরটি তুলনামূলকভাবে উচ্চতর আত্মসন্তুষ্টি-বোধসম্পন্ন মানুষের বৈশিষ্ট্য।

- দিনে 10টির কম হাসি প্রায়ই নিম্ন মেজাজ ও উচ্চতর চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তবে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ গুণমান, শুধু পরিমাণ নয়। চোখের চারপাশের পেশি সক্রিয় করে যে আন্তরিক দুশেন হাসি ফুটে ওঠে, তা লোকদেখানো ভদ্রতার হাসির চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।

ব্যবহারিক পরামর্শ

1. সারাদিন জোর করে হাসার চেষ্টা করবেন না—এতে উল্টো ফল হতে পারে।

2. ছোট ছোট ‘হাসির বিরতি’ নিন: সকালে বা দিনের অন্য সময় আয়নার সামনে 5–10 সেকেন্ড হাসুন।

3. স্বাভাবিকভাবে হাসির উপলক্ষ খুঁজুন: প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো, মধুর স্মৃতি, মজার ভিডিও কিংবা প্রশংসা।

4. শুধু অন্যদের জন্য নয়, নিজের জন্যও হাসুন—এমনকি একা থাকাকালীন মৃদু হাসিও একই জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়া শুরু করে।

বিজ্ঞান সহজ কথাই বলে: আমাদের সাধারণত যতবার হাসি, তার চেয়ে বেশি হাসা উচিত। অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য লক্ষ্য হিসেবে দিনে 20–30টি আন্তরিক হাসি লক্ষ্যটি যুক্তিসংগত ও অর্জনযোগ্য বলে মনে হয়। এটি বিষণ্নতার কোনো জাদুকরি ওষুধ নয়, তবে মেজাজ ভালো রাখা, মানসিক চাপ কমানো এবং আশপাশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার সবচেয়ে সহজলভ্য ও আনন্দদায়ক উপায়গুলোর একটি।

তাই এখনই একবার হেসে ফেলুন। বিশটির মধ্যে সেটি যদি মাত্র একটি হাসিও হয়—তবু শুরুটা ভালো।

61 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Not always the best medicine: Why frequent smiling can reduce wellbeing

  • Not "The More The Merrier": Diminishing Returns to Daily Face-To-Face Social Interaction Frequency for Well-Being in Older Age

মন্তব্য

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।