আপনার কুকুর কি স্নান সেরে বেরিয়েই আসবাবপত্র তছনছ করা এক পশমি গোল্লায় পরিণত হয়েছে? নাকি আপনার বিড়ালটি মাধ্যাকর্ষণকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেয়ালে দেয়ালে নৈশকালীন দৌড় শুরু করেছে? ইন্টারনেটের দুনিয়ায় একে ‘জুমিস’ বলা হয়, তবে ২০২৬ সালের বিজ্ঞান মহলে এই আচরণকে নিছক দুষ্টুমির চেয়েও বড় কিছু হিসেবে দেখা হচ্ছে।
FRAPs (ফ্রেনেটিক র্যান্ডম অ্যাক্টিভিটি পিরিয়ডস) আপনার পোষা প্রাণীর স্বভাবে কোনো ত্রুটি নয়। এটি মূলত মানসিক চাপ কমানোর এক চমৎকার কৌশল। ভাবুন তো, সারাদিন প্রাণীটি আপনার রুটিন অনুযায়ী চলছে: হাঁটার জন্য অপেক্ষা করা, শিকারি প্রবৃত্তি দমন করা, এমনকি ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের শব্দ সহ্য করা। কোনো এক মুহূর্তে কর্টিসল (মানসিক চাপের হরমোন) কমানোর জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। এই আকস্মিক দৌড়ঝাঁপ হলো শরীরের অতিরিক্ত রাসায়নিক পুড়িয়ে স্নায়ুতন্ত্রকে আবার ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দ্রুততম উপায়।
বর্তমানে বিড়ালের ‘টয়লেট জুমিস’-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে, মলত্যাগের সময় ভেগাস নার্ভের উদ্দীপনা তাদের শরীরে সাময়িকভাবে ডোপামিনের জোয়ার তৈরি করে। বিড়ালটি লজ্জায় দৌড়ায় না, বরং শারীরিকভাবে অত্যন্ত ভালো বোধ করার কারণেই এমনটা করে।
তবে ২০২৬ সালে চিকিৎসকরা মালিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। আমরা মনে করি যে বয়স্ক বিড়ালটি সন্ধ্যার দৌড়ঝাঁপ বন্ধ করে দিয়েছে কারণ সে এখন ‘শান্ত’ হয়ে গেছে। আসলে FRAPs-এর হঠাৎ অনুপস্থিতি একটি উদ্বেগের লক্ষণ। অনেক সময় এটি অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা মানসিক সক্ষমতা হ্রাসের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। প্রাণীটি দৌড়াতে চায়, কিন্তু ব্যথার কারণে মস্তিষ্ক সেই ইচ্ছাকে আটকে দেয়।
আপনার পোষা প্রাণীটি কি এখন আর আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় না? অথবা তার চলাফেরা কি আড়ষ্ট ও অস্বাভাবিক হয়ে গেছে?
এই ‘জুমিস’-এর কৌশল বোঝা আমাদের সেই প্রাণীদের অন্তর্জগৎ বুঝতে সাহায্য করে যারা তাদের সুখ বা দুঃখ ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না। সুস্থ ‘জুমিস’ হলো এই সংকেত যে প্রাণীটি নিরাপদ বোধ করছে এবং তার শরীর একদম নিখুঁতভাবে কাজ করছে। পরের বার যখন আপনার ল্যাব্রাডর স্নানের পর ল্যাম্পশেড উল্টে দেবে, তখন বুঝবেন: তার জৈবিক কপাটিকা তাকে মাত্রই মানসিক চাপ থেকে রক্ষা করল।



