ভালোবাসা ও আনুগত্যের স্বীকৃতি: টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে যেভাবে গ্র্যাজুয়েট হলো পরিষেবা কুকুর স্যাডি

লেখক: Katerina S.

টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন মঞ্চে তখন এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। সমাবর্তনের বিশেষ গাউন পরে মাকায়েলা মিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট লরেন্স শভানেকের সাথে করমর্দন করছিলেন। তবে সবার নজর তখন মাকায়েলার দিকে নয়, বরং ছিল তার সঙ্গীর ওপর। তার ঠিক পাশেই শিক্ষার্থীদের সমাবর্তন পোশাকের মতো একটি ছোট গাউন পরে ধৈর্য ধরে বসে ছিল স্যাডি নামে একটি সাদা জার্মান শেফার্ড।

প্রেসিডেন্ট মুহূর্তের জন্য থামলেন, এরপর চেয়ারের পেছন থেকে লাল ফিতায় মোড়ানো একটি বিশেষ উপহার—একটি হাড় বের করে নিচু হয়ে কুকুরটির হাতে তুলে দিলেন। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওর পেছনে রয়েছে মানসিক দৃঢ়তা এবং শর্তহীন ভালোবাসার এক অনন্য গল্প।

ছয় বছর বয়স থেকেই মাকায়েলার স্বপ্ন ছিল পশুচিকিৎসক হওয়ার। মাকায়েলা যখন হাই স্কুলে পড়তেন, তখনই স্যাডি তার জীবনে আসে। খুব দ্রুতই তাদের সম্পর্ক কেবল মালিক ও পোষা প্রাণীর সাধারণ বন্ধুত্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় মাকায়েলার একটি বিরল জিনগত রোগ ধরা পড়ে, যার জন্য নিয়মিত চিকিৎসা ও বিশেষ পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন ছিল। ঠিক সেই সময়েই স্যাডিকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যার ফলে সে সাধারণ একটি প্রিয় কুকুর থেকে সার্বক্ষণিক সেবাদানকারী এক নির্ভরযোগ্য সঙ্গীতে পরিণত হয়। প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও স্যাডি তার মালকিনের প্রয়োজন আগেভাগেই বুঝতে পারত এবং তাকে সবসময় এক ধরণের নিরাপত্তা ও স্বস্তি জোগাত।

এই সময়টি মাকায়েলার জীবনের জন্য ছিল এক কঠিন পরীক্ষা। শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি তাকে ব্যক্তিগত শোকও সইতে হয়েছিল; মাকায়েলার ক্যান্সারের চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরপরই তার বাবা মারা যান। সেই দুঃসময়ে স্যাডিই ছিল তার জীবনের প্রধান অবলম্বন। কুকুরটি তার সাথে ক্লাসে যেত, পরীক্ষার আগের রাতগুলোতে জেগে পাহারা দিত এবং এমনকি রসায়ন ল্যাবে প্রবেশের জন্য স্যাডির নিজস্ব সুরক্ষা সরঞ্জামও ছিল।

টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি তাদের কাছে দ্বিতীয় বাড়িতে পরিণত হয়েছিল। শিক্ষকরা কেবল কুকুরটির উপস্থিতিকে মেনে নিয়েছিলেন তা নয়, বরং তাকে দেখে আন্তরিকভাবে আনন্দিত হতেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিষেবা কুকুর আছে এমন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা সেবা চালু রয়েছে। এই বিভাগটি প্রাণীদের নিবন্ধন এবং যাবতীয় সাংগঠনিক বিষয়গুলো তদারকি করে।

এমন ব্যবস্থা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে। পরিষেবা কুকুরগুলো কেবল ব্যবহারিক কাজই করে না, বরং এগুলো মানসিক উদ্বেগ কমিয়ে পড়াশোনায় মনযোগ দিতে সাহায্য করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিত এমন সভার আয়োজন করে যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাণীদের সাথে আচরণের বিষয়ে পরামর্শ পায়। সবাইকে আপন করে নেওয়ার এই পরিবেশই মাকায়েলাকে শারীরিক ও মানসিক বাধা জয় করে কৃতিত্বের সাথে পড়াশোনা শেষ করতে সাহায্য করেছে।

স্যাডির এই 'ডিপ্লোমা' পাওয়ার মুহূর্তটি ছিল এই দীর্ঘ যাত্রার এক আবেগঘন সমাপ্তি। মাকায়েলা রসিকতা করে বলেছিলেন যে, ক্লাসের বেশিরভাগ সময় ঘুমিয়ে কাটিয়ে এবং কোনো হোমওয়ার্ক না করেই তার বন্ধু কীভাবে গ্র্যাজুয়েট হলো তা তিনি বুঝতে পারছেন না; তবে আমরা সবাই জানি—এটি ভালোবাসা, আনুগত্য এবং নিঃস্বার্থ সেবার এক অনন্য স্বীকৃতি। পুরো গল্পটি আমাদের শেখায় যে, স্যাডির মতো কেবল কঠিন সময়ে পাশে থাকাই নয়, বরং প্রয়োজনীয় সহায়তার পরিবেশ তৈরি করেও আমরা একে অপরের জীবনকে সহজ করে তুলতে পারি, যার জন্য টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ বিশেষ কৃতজ্ঞতা পাওয়ার যোগ্য।

16 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Texas Tech Now

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।